Ahamed Minto

Full Stack Developer

React Developer

Angular Developer

NodeJS Developer

Flutter developer

Ionic Developer

C# WebAPI Developer

PHP Developer

Marathon runner

.Net Core Developer

Ahamed Minto

Full Stack Developer

React Developer

Angular Developer

NodeJS Developer

Flutter developer

Ionic Developer

C# WebAPI Developer

PHP Developer

Marathon runner

.Net Core Developer

Blog Post

পেস যখন শূন্যে, দৌড় তখন কল্পনার রাজ্যে!

November 4, 2024 Blog post
পেস যখন শূন্যে, দৌড় তখন কল্পনার রাজ্যে!

আপনারা যারা আমার লেখা পড়েন বা আমার রানিং সম্পর্কিত পোস্টগুলো দেখেন, প্রায় সবাই জানেন। রানিং-এর সময় আমি অনুকাব্য, কবিতা বা গান বানাতে পছন্দ করি, আর সেই দৌড়ের মুহূর্তগুলো আমার সামনে নানা রকম ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। সেই ভাবনাগুলো অনেক সময় কোনো যুক্তির ধার ধারে না—যা মন চায়, তাই ভাবি।

এই তো গত শুক্রবার, দীর্ঘ বিরতির পর একটি হাফ ম্যারাথন দিলাম। যেহেতু বিরতিটা বেশ দীর্ঘ ছিল, তাই নানা ভাবনা আমার মনের কোণে জমা হয়ে ছিল। দৌড়ের শুরু করলাম ৭.৩০ মিনিট/কিমি পেসে, যা বেশ ধীর। প্রথম কিলোমিটার পার হওয়ার পর গতি একটু বাড়ানোর চেষ্টা করলাম। তখনই হঠাৎ মাথায় এলো, “কি হবে যদি পেস ৭ থেকে ৬, ৫, ৪, ৩, ২, ১, এভাবে ০-তে নিয়ে যাই?” নানান অদ্ভুত ভাবনা মাথায় ভিড় করতে লাগল।

এই ভাবনা মাথায় নিয়ে দৌড়াচ্ছি, আর তখন আরও এক উদ্ভট চিন্তা এসে যোগ হলো—পেস যদি -৬ হয় তাহলে কি হবে? এখন আমার মনের ভেতর পুরোপুরি এই অদ্ভুত ভাবনা দখল করে ফেলেছে। ভাবতে লাগলাম যুক্তি-বুদ্ধি ছাড়াই, যেমনটা মনে আসছে। এই এলোমেলো ভাবনা থেকেই আজকের এই লেখা। যদি আপনার কাছে এটা অযৌক্তিক লাগে, তবে এখানেই থেমে যেতে পারেন। আর যদি আমার সাথে এই উদ্ভট ভাবনায় সঙ্গী হতে চান, তবে চলুন চিন্তা-ভাবনা শুরু করি!

পেস ০ হওয়া মানে তো এক অসাধারণ অবস্থা, যেখানে গতি তার সীমাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, এমন এক অসম্ভব গতি যা সময়কেও অতিক্রম করে চলে! এই অবস্থায় মনে হলো, যেন আমি নিজেই আলো! পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, আলোর গতি এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম, যা প্রায় ৩,০০,০০০ কিমি/সেকেন্ড। মানুষের পক্ষে এমন গতি অর্জন করা কল্পনাতীত। আলোর গতিতে ছোটা মানে শুধু দ্রুত হওয়া নয়, বরং ভরহীন হয়ে মহাকর্ষের সকল বাঁধা অতিক্রম করা। আর আলোর গতির ওপরে ছোটা? সেটি তো বিজ্ঞান অসম্ভব বলে মনে করে। আমাদের মহান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই বিষয়ে কঠোর ভাষায় বলে গেছেন: “তোমরা কেউ আলোর গতি অতিক্রম করতে পারবে না!” (সত্যিই কি তিন বার না বলেছিলেন? কে জানে!)

আরও এক মজার ভাবনা আসল—পেস যদি -৬ হয়? অর্থাৎ, এমন এক অবস্থা যেখানে আমি যেন সময়কে উল্টো দিকে চালাচ্ছি! পেস -৬ মানে কি? এটি একেবারে কল্পনার রাজ্যের ভাবনা, যেখানে আমি এক কিলোমিটার দৌড়ানোর জন্য সময়কেও পিছনে ফেলে দিচ্ছি। যেন আমি ভবিষ্যতের দিক থেকে অতীতে ফিরে আসছি! আপনারা যারা বয়স কমাতে চান, তারা যদি অন্তত -১ পেসে দৌড়াতে পারেন, তাহলে বয়স সত্যিই কমে যাবে এবং আপনিও জন্মের আগের সময়েই পৌঁছে যাবেন।

কি, খুব অদ্ভুত শোনাচ্ছে? বাস্তবে এটি সম্ভব না হলেও গণিতের মারপ্যাঁচে কল্পনায় তুলে ধরা যায়। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এটি অসম্ভব এবং গণিতের দিক থেকেও অর্থহীন।

গণিতের দৃষ্টিকোণ থেকে
গণিতের ভাষায়, পেস ও গতি নির্ধারণ করতে গেলে আমরা বলতে পারি: পেস = সময় / দূরত্ব

যদি পেস -৬ হয়, তাহলে সমীকরণ অনুযায়ী সময়ের মান শূন্যের নিচে যেতে হবে, যা বাস্তবে অসম্ভব। এটি কেবল এক মজার কল্পনা, যেখানে সময় আর স্থানের সম্পর্ক উল্টো পথে ছুটছে।

পেস এবং স্পিডের সম্পর্ক
পেস এবং স্পিড পরস্পর বিপরীতমুখী। পেস (pace) বলতে বোঝায় প্রতি কিলোমিটার বা মাইল দৌড়াতে কত মিনিট সময় লাগে, আর স্পিড (speed) বলতে বোঝায় প্রতি ঘণ্টায় কত দূরত্ব অতিক্রম করা যায়। পেস কম হলে স্পিড বাড়ে, আর স্পিড বাড়লে পেস কমে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ৬০ মিনিটে ১০ কিমি দৌড়ালে পেস হবে ৬ মিনিট/কিমি, আর স্পিড হবে ১০ কিমি/ঘণ্টা।

দৌড়ের সময় পেসের গুরুত্ব
পেসের মাধ্যমে রানাররা তাদের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, যা কত দ্রুত দৌড়াচ্ছেন তার হিসাব রাখতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, ৫ মিনিট/কিমি পেস ধরে রাখতে পারলে ৫ কিমি দৌড়ে ২৫ মিনিট লাগবে।

মানুষের পক্ষে সর্বোচ্চ পেস
মানুষের দৌড়ের ক্ষেত্রে পেসের একটি শারীরিক সীমা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের গতি প্রতি ১০০ মিটার দৌড়ের জন্য প্রায় ২৭.৮ কিমি/ঘণ্টা, যা বেশ অসাধারণ, তবে কেবল স্বল্প সময়ের জন্য। তার পেস ছিল প্রায় ২.১৪ মিনিট/কিমি, যা কেবল কয়েক সেকেন্ডের জন্যই সম্ভব।

তবে ভাবুন তো, যদি আমার পেস ধীরে ধীরে কমে ০-তে আসে, আর আমি যেন আলোর গতির সাপেক্ষে ছুটছি—এই দৌড় কি ক্লান্তির হতে পারে? বরং এটি হবে এমন এক গতি, যেখানে প্রতিটা মুহূর্ত হয়ে উঠবে চিরন্তন, প্রতিটা পদক্ষেপ এক অনন্ত আনন্দের প্রকাশ।

আমাদের জীবনের গতিও যেন অনেকটা দৌড়ের মতো—যেখানে পেসের ওঠা-নামার মধ্যেই ছড়িয়ে আছে জীবনের চেনা রূপ। হয়তো পেস ৬ থেকে ০ এবং তারপর -৬-এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক নতুন রকমের গতিময়তা, যেখানে গন্তব্য নয়, বরং প্রতিটা মুহূর্তের আনন্দই আসল সার্থকতা।

লেখাটি পড়ে হয়তো আপনার চিন্তার জগতেও হইচই ফেলে দিলাম, তার জন্য আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তবে এই দৌড়ের আনন্দে আপনারাও সঙ্গী হতে থাকুন—পেস -৬ এ না আসা পর্যন্ত!

Write a comment