Ahamed Minto

Full Stack Developer

React Developer

Angular Developer

NodeJS Developer

Flutter developer

Ionic Developer

C# WebAPI Developer

PHP Developer

Marathon runner

.Net Core Developer

Ahamed Minto

Full Stack Developer

React Developer

Angular Developer

NodeJS Developer

Flutter developer

Ionic Developer

C# WebAPI Developer

PHP Developer

Marathon runner

.Net Core Developer

Blog Post

একজন আলট্রা রানারের জন্ম: মনিরুল ভাইয়ের শমসের নগর ৫০ কিমি বিজয়ের গল্প

November 1, 2024 Blog post
একজন আলট্রা রানারের জন্ম: মনিরুল ভাইয়ের শমসের নগর ৫০ কিমি বিজয়ের গল্প

অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম, মনিরুল ইসলাম (Monirul Islam) ভাইকে নিয়ে একটা লেখা লিখবো। কিন্তু সবসময় মনে হয়, এমন একটা বিশেষ মুহূর্ত দরকার, যখন তার গল্পটা সত্যিই প্রাসঙ্গিকভাবে বলা যায়। অবশেষে সেই মোক্ষম সুযোগটা পেয়ে গেলাম আজ।

ঠিক এই লেখাটা লিখতে বসার আগে আমি একটা কাজ করে এলাম – মনিরুল ইসলাম ভাইকে ফোন দিলাম। আলট্রা রানের এই বিশাল সাফল্যের জন্য তাকে অভিনন্দন জানানো ছাড়া কীভাবে চুপ করে বসে থাকি? ফোনের ওপার থেকে যেন গর্ব আর আনন্দ মিশ্রিত এক কণ্ঠস্বর। হাসিমুখে শোনালেন তার ৫০ কিলোমিটার জয়ের গল্প, শমসের নগরের পথে পথের প্রতিটি পদক্ষেপের অভিজ্ঞতা। কথায় কথায় বুঝলাম, এ তো শুধু একটি দৌড় ছিল না; এটা ছিল তার জন্য এক অন্যরকম সংগ্রাম আর আত্ম-আবিষ্কারের গল্প।

শুনতে শুনতে আমার ভেতরেও যেন অদ্ভুত এক অনুপ্রেরণার স্রোত বইতে শুরু করলো। তার কথায় যেন আগুন লাগিয়ে দিলো আমার মধ্যে, আমিও ভাবতে শুরু করলাম – পরের শমসের নগর আলট্রা ম্যারাথনে আমিও অংশগ্রহণ করবো। মনির ভাইয়ের সেই সাফল্য যেন আমাকেও ডেকে নিয়ে যাচ্ছে সেই সবুজের মধ্যে, পাহাড়ি পথের উঁচু-নিচু পথে।

এখন আসল গল্পটা বলি।

রাত তখন গভীর, চারদিকে নিস্তব্ধতা। আমার মতো রাতজাগা মানুষেরা তখনও হয়তো ব্যস্ত তাদের নিজ নিজ কাজে। আমি ছিলাম কোডিং নিয়ে মগ্ন। প্রতি বৃহস্পতিবার রাতটা আমি সাধারণত এমনভাবেই কাটাই – নতুন নতুন কোড লেখার মধ্যে ডুবে থাকা। এমন রাতগুলোয় সময়ের দিকে তাকানোর প্রয়োজন পড়ে না, কারণ ভোরের আলো ফোটার আগে পর্যন্ত কোডিং-ই থাকে সঙ্গী।

কিন্তু এই রাতের শেষটা আমার জন্য একটু ভিন্ন রকমের হতে চলেছিল। ভোরের দিকে যখন চোখ ধীরে ধীরে বুজে আসছিল, তখনই ভাবলাম, এবার একটু ঘুমাই। ঠিক সেই মুহূর্তে, দূরে শমসের নগরের পাহাড়ি ও সবুজ পথ ধরে শুরু হয়েছে আরেকজন মানুষের এক অসাধারণ যাত্রা। মনিরুল ভাই, যিনি আমাদের রাননিং কমিউনিটির পরিচিতি মুখ, তিনিও হয়তো তখন আমার মতোই অনেক রাতে প্রস্তুতি শেষ করে এই ৫০ কিমি আলট্রা রান শুরু করেছিলেন। ভাবতে অবাক লাগে, আমি যখন ঘুমের দিকে পা বাড়ালাম, তিনি তখন গাঢ় নিস্তব্ধতা আর কুয়াশায় ঘেরা পথে পা বাড়াচ্ছেন।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই অভ্যাসবশত ফেসবুক খুললাম। আর তাতেই চোখ আটকে গেল এক ছবিতে – মনিরুল ভাই, হাসি মুখে, গলায় ঝুলানো এক বিশাল মেডেল। যেন এক সৈনিক বিজয়ী হয়ে ফিরেছেন। ছবিটা দেখে মনের মধ্যে এক ধরনের গর্ববোধ জেগে উঠলো, কারণ জানি যে এই ৫০ কিমি আলট্রা রান কোন সাধারণ কৃতিত্ব নয়। যে পথে হাজারো চ্যালেঞ্জ, সেখানে মনির ভাই যেন সাহস আর শক্তি দিয়ে এক অজেয় দূরত্ব জয় করলেন।

আমার আর মনির ভাইয়ের প্রথম পরিচয় হয়েছিল ২০২২ সালে, পিংক সল্ট রানে। তখনও আমি নিজেকে এক নবীন রানার হিসেবে ভাবতাম। পিংক সল্ট রান ছিল আমার দ্বিতীয় ইভেন্ট, আর মনির ভাইয়ের প্রথম। তখন তিনি দৌড়ের জগতে একেবারে নতুন, কিন্তু তার দৌড়ের প্রতি একাগ্রতা ও ভালোবাসা আমাকে আকর্ষণ করেছিল প্রথম দেখাতেই। সাত কিলোমিটার ছিল সেই ফান রান ইভেন্টে। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করার পর আমাদের দেখা হয়, একসাথে পথ চলতে থাকি। নোমান ভাইসহ আরো কয়েকজনও ছিলেন আমাদের সাথে। সেই প্রথম ইভেন্টে দৌড়ানোর মজাটা আমরা সবাই মিলে এতটা উপভোগ করেছিলাম যে তা কখনো ভোলা সম্ভব নয়।

এরপর থেকে বহু ইভেন্টে আমরা একসাথে দৌড়িয়েছি। প্রতিবারই মনির ভাইয়ের মধ্যে এক অন্যরকম দৃঢ়তা আর প্রতিশ্রুতি দেখেছি, যা সত্যিই অসাধারণ। তিনি যে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং ফিটনেসের জন্য যে যত্নবান, তা দেখে আমিও নিজের দৌড়ের প্রতি আরেকটু সিরিয়াস হয়ে উঠেছিলাম। নিয়মিত শরীরচর্চা আর মনোবল ধরে রাখার জন্য তিনি যে কঠোর পরিশ্রম করেন, তা শুধু আমাকে না, আমাদের অনেককেই অনুপ্রাণিত করে।

কিন্তু 50k আলট্রা রান – এ এক অন্যরকম সংগ্রাম। এটি শুধু শারীরিক সহ্যশক্তির নয়, মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা। ৫০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করা মানে হল নিজের সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া। শমসের নগরের এই আলট্রা রানে পথের প্রতিটি মোড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল, প্রতিটি ধাপ ছিল একটি নতুন লড়াই। যেখানে পাহাড়ি পথ আর সবুজে ঘেরা চারপাশ, সেখানে মনির ভাই প্রতিটি পদক্ষেপে এগিয়ে গেছেন।

শমসের নগরের এই আলট্রা রান প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মানেই এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। সেখানে পরিবেশের সৌন্দর্য আর বিশালতার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলা যায়। আমাদের সবার পরিচিত রানার Abdul Basit ভাই এই সুন্দর ইভেন্ট টি আয়োজনের পিছনে রয়েছে তিনি সবসমই বলেন – “An hour on your feet for yourself” অর্থাৎ নিজের জন্য একটি ঘন্টা, নিজের সাথে নিজেকে খুঁজে পাওয়া। এটি ব্যক্তিগত মনোবল আর শারীরিক ক্ষমতার একটা আসল পরীক্ষার মত। আর মনির ভাই এই পরীক্ষায় উতরে গেছেন অতুলনীয় সাহস নিয়ে। এই ধরনের আলট্রা রানে প্রতিটি কিলোমিটার যেন এক নতুন চ্যালেঞ্জ, যেখানে একদিকে শরীর চায় বিশ্রাম, আর অন্যদিকে মন চায় আরও এগিয়ে যেতে। মনির ভাইয়ের মধ্যে সেই ইচ্ছাশক্তি আছে, যা তাকে প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে এই দূরত্ব সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছে।

যে মানুষ একদিন আমাদের মাঝে একজন নতুন দৌড়বিদ হিসেবে এসেছিলেন, আজ তিনি আমাদের সবার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন। আলট্রা রানার মনিরুল ইসলাম ভাই, এই সাহসী যাত্রার জন্য আপনাকে আবারও অভিনন্দন!

Write a comment