মহাকাশের স্মৃতি
একটা সময় ছিল, যখন আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালোবাসতাম। মহাকাশের রহস্যগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম, পড়তাম ব্ল্যাকহোল, সুপারনোভা, কোয়াসার, ধূমকেতু—এমন সব বিষয়ের কথা। কত রাত যে কাটিয়ে দিতাম এই বিস্তীর্ণ আকাশের নিচে, তার কোনো হিসাব নেই। বিশেষ করে শরতের সেই পরিষ্কার আকাশ, যেন আমাকে নিজের দিকে টেনে নিত, ভীষণ মায়া ছিল তাতে। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে একটা গন্ধ পেতাম, সত্যিই যেন আকাশের নিজস্ব একটা গন্ধ।
কিন্তু এখন সেই গন্ধটা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে, কেমন অপরিচিত লাগে। মাঝে মাঝে ভুল করে আকাশের দিকে তাকাই, আর একটা অজানা দীর্ঘশ্বাস বুক থেকে বেরিয়ে আসে। ঠিক এমনই এক নির্জন রাতে, সেই ফিকে হয়ে আসা অনুভূতিটা ছুঁয়ে এই কবিতাটি লিখেছিলাম।
হয় না দেখা আকাশটাকাশ
আগের মতো সেই…
আজও জ্বলে সন্ধ্যাতারা,
নেই মনোযোগ, নেই।
ধূমকেতুকে হয় না বলা
একটু থেমে দাঁড়া,
আঁধার চিরে চাঁদের আলো
দেয় না মনে সাড়া।
ছায়াপথের খোঁজ করি না,
দূর আকাশে রোজ,
উল্কা ঝরে আগের মতোই,
নেই না কোনো খোঁজ।
খোঁজ রাখি না কৃষ্ণবিবর,
বাড়ল নাকি কমলো,
খোঁজ রাখি না কোন গ্রহে
পেল নতুন অম্ল।
আকাশ নিয়ে ভাবার দিনে,
ফেরা হয় না আর,
অচেনা এক ধূসর আলোয়
আমার আকাশ ভার।
কেউ জানে না, আমার এ মন জানে,
স্বপ্ন খোঁজে হারিয়ে যেতাম
তাকিয়ে আকাশ পানে।