ছেড়ে দেন। কাকে দেখাবেন? অসুস্থ হয়ে দেখেন কেউ পাশে নেই।
এই কথাটি আমার নয় রানিং কমিউনিটির শ্রদ্ধেও একেএম আহ্সান উল্লাহ ভাইয়ের। কয়েক দিন আগে আমার লেখা “আপনার প্রথম ম্যারাথন এবং রান-ওয়াক-রান পদ্ধতি ” পোস্টটে এই কমেন্টটি করেছিলেন । কথাটি আমার খুব মনে ধরেছে । আসলেই তো আমরা যারা শখ কিংবা রানিং এর প্রতি ভালোবাসা থেকে নিয়মিত রান করিতারা যদি নিজের সামর্থের প্রতি খেয়াল না রেখে দেখানো বা অন্যকে ছাড়িয়ে যাবার নিমিত্তে কিংবা জাস্ট সেলফ ইগো থেকে রানিং এর দূরত্ব , পেস এসব বাড়াতে গিয়ে কোনো ইনজুরির শিকার হই তাহলে কেউ কয়দিন পরআমাদের কথা স্মরণ করবে না ।
তাই এই লেখায় আমি ইগো কিভাবে একজন রানার এরজন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে তাই নিয়ে বলছি :-
যদিও একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস এবং আত্ম-সম্মান রানারদের জন্য উপকারী হতে পারে,কিন্তু অত্যধিক ইগো বা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। আমি কিছু বিষয়ের উপর আলোকপাত করছি
- অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ: দৌড় আসলেই একটি নেশার মতো কারণ দৌড়ের পর আমাদের দেহে অনেক গুলো হরমোন নিঃসরণ হয় যা আপনার ব্রেইনে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরীকরে । এর ফলে আমরা অনেকেই এই দৌড়ের প্রেমে পরে যাই সেটা অবশই ভালো । এই প্রেমের সম্পর্ক আরো মজবুত করার জন্য আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ শুরু করে দেই । এসময় অনেকেই আমরা ওভার ট্রেনিং করেফেলি দেহকে পর্যাপ্ত রিকোভারির সময় না দিয়ে , যা আঘাত, ক্লান্তি এবং বার্নআউটের ঝুঁকি বাড়ায়।
- সতর্কতা চিহ্ন উপেক্ষা করা: সত্যি কথা কি জানেন ? দৌড় আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বাড়িয়ে দেয় সেটা অন্য রানারের সাথে কিংবা নিজের সাথেও হতে পারে । আর যেখান থেকে জন্ম নিতে পারে ইগো। এই ইগোর পাল্লায় পরে অনেকেই দৌড়ের সময় আঘাত বা ক্লান্তির লক্ষণগুলি উপেক্ষা করতে পারে। এই সতর্কতা চিহ্নগুলি উপেক্ষা করা আরও গুরুতর আঘাত এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে।
- অন্যের সাথে তুলনা এবং চাপ: ইগো -চালিত দৌড়বিদরা ক্রমাগত নিজেকে অন্যদের সাথে তুলনা করতে পারে এবং এমন একটি স্তরে পারফর্ম করার জন্য চাপ অনুভব করতে পারে যা হয়তো তার জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। এই চাপ, উদ্বেগ রানারের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- আঘাতের ঝুঁকি: ইগো-চালিত দৌড়বিদরা ব্যক্তিগত সেরা অর্জন বা অন্যদের বিট করতে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে পারে, যার ফলে যথাযথ বিশ্রাম ছাড়াই নিজের বডিকে পুশ করে এবং অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ নেবার চেষ্টা করে । যা অবশই আঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
- আনন্দের উপর নেতিবাচক প্রভাব: অতিরিক্ত প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দৌড়কে একটি আনন্দহীন কার্যকলাপে পরিণতকরতে পারে। যখন আপনার প্রাথমিক ফোকাস অন্যদের জয় বা ছাড়িয়ে যাওয়ার দিকে থাকে, তখন রানিং থেকে প্রাপ্ত আনন্দটি হারিয়ে যেতে পারে।
- সম্পর্কের টানাপোড়েন: রানিং এ ক্রমাগত কৃতিত্ব দেখতে গিয়ে হয়তো নিজের উপর নিজেই হয়তো চাপ তৈরী করছেনা যা পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহ -রানারদের সাথে সম্পর্কে ঝামেলা তৈরী করতে পারে । অনেক সময় হয়তো আপনি নিজেকে বিছিন্ন ভাবতে শুরু করতে পারেন যা রানারের সামগ্রিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব : সত্যি কথা বলতে কি ইগো দ্বারা চালিত যে কোনো কাজই মানসিক অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। দৌড়ানো যখন শুধুমাত্র নিজেকে প্রমাণ করা বা বাহ্যিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য হয়ে ওঠে, তখন এটি দীর্ঘমেয়াদে আপনার মনস্তত্বে প্রভাব ফেলতে বাধ্য ।
দৌড়বিদদের জন্য সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখা, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করা, তাদের শরীরের কথা শোনা, এবং শুধুমাত্র নিজের সুস্থতা ঠিক রেখে আনন্দ খুঁজে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনার লক্ষ্য হোক রানিং এর মাধ্যমে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করা যা দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য এবং সামগ্রিক সুস্থতায় অবদান রাখতে পারে।
Really meaningful thoughts are presented by live words
Thank You
Apnar lekha gulo khub valo hoy bhaiya
Thank You
সুন্দর
Thank You